মিলাদুন্নবী, জুলুস ও ইসলামের আসল দৃষ্টিভঙ্গি
মিলাদুন্নবী, জুলুস ও ইসলামের আসল দৃষ্টিভঙ্গি
১. রাসুল ﷺ এর যুগে জন্মদিন পালনের প্রমাণ নেই
কোরআন ও হাদিসে কোথাও জন্মদিন পালন করার নির্দেশ নেই।
রাসুল ﷺ নিজে কখনো জন্মদিন উদযাপন করেননি, বরং তিনি সোমবারে রোজা রাখতেন।
সহিহ মুসলিমে এসেছে: রাসুল ﷺ বলেছেন,
“এ দিনেই (সোমবারে) আমার জন্ম, আর এ দিনেই আমার উপর ওহী নাযিল হয়েছে।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস ১১৬২)
অর্থাৎ জন্মদিনকে তিনি ইবাদত হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন রোজার মাধ্যমে, উৎসব নয়।
২. মক্কা-মদিনায় কেন জুলুস হয় না?
মক্কা ও মদিনা ইসলামের কেন্দ্র। সেখানে কোরআন–সুন্নাহ অনুযায়ীই আমল করা হয়।
সেখানে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে কোনো শোভাযাত্রা, গান–বাজনা, বা জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা হয় না।
মদিনায় যেখানে রাসুল ﷺ শায়িত আছেন, সাহাবায়ে কেরাম থেকেও কারো আমল নেই যে তারা জন্মদিনে কোনো বিশেষ আয়োজন করেছেন।
৩. সাহাবা ও সালাফের আমল
রাসুল ﷺ এর পরে সাহাবা (রাযি.), খোলাফায়ে রাশেদিন, তাবেঈন বা তাবে তাবেঈন কারো যুগে মিলাদ বা জুলুসের প্রচলন ছিল না।
ইমাম মালিক (রহ.), ইমাম আবু হানিফা (রহ.), ইমাম শাফেয়ী (রহ.), ইমাম আহমাদ (রহ.)– কারো আমল বা ফতোয়ায় জন্মদিন উদযাপনের প্রমাণ নেই।
৪. কোরআন ও হাদিসের আলোকে বিদ‘আত সম্পর্কে সতর্কতা
রাসুল ﷺ বলেছেন:
“যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনে এমন কিছু নতুন চালু করবে, যা এর অংশ নয়, তা প্রত্যাখ্যাত হবে।” (সহিহ বুখারি ও মুসলিম)
আবার বলেছেন:
“প্রত্যেক বিদআত গোমরাহি।” (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ৪৬০৭)
অতএব, রাসুল ﷺ ও সাহাবাদের আমলে না থাকা নতুন ইবাদত বা অনুষ্ঠান মুসলমানদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করে।
৫. মিলাদুন্নবীর জুলুস কবে থেকে শুরু?
ঐতিহাসিকভাবে জানা যায়, ফাতেমীয় শাসকেরা (শিয়া বংশোদ্ভূত, মিসরে) ৪র্থ হিজরীতে প্রথম মিলাদ আয়োজন শুরু করে।
সেখান থেকেই ধীরে ধীরে এটি মিসর, সিরিয়া, ভারত–পাকিস্তান হয়ে বাংলাদেশে এসেছে।
বাংলাদেশে পাকিস্তানি কিছু পীর, বিশেষত তাহের শাহ ও তৈয়ব শাহ এ আয়োজনকে প্রচলিত করেছেন।
৬. মুসলমানদের জন্য করণীয়
আমরা যেন জন্মদিন উদযাপনকে উৎসব না বানিয়ে রাসুল ﷺ এর সুন্নাহ অনুসরণ করি।
রাসুল ﷺ এর জন্মদিনে আমল করার সবচেয়ে উত্তম কাজ:
👉সোমবারে রোজা রাখা
👉দরুদ শরীফ বেশি পড়া
👉সদকা করা
👉রাসুল ﷺ এর জীবনী অধ্যয়ন ও তার অনুসরণ
উপসংহার:
রাসুল ﷺ, সাহাবায়ে কেরাম বা খাইরুল কুরুনে কারো আমলে জন্মদিন উদযাপনের প্রচলন ছিল না। তাই জুলুস, গান–বাজনা, রাস্তা বন্ধ, বিরিয়ানির আয়োজন ইসলামী দৃষ্টিতে ভিত্তিহীন।
বরং আমাদের উচিত রাসুল ﷺ–এর দেখানো সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা এবং বিভাজন নয় বরং ঐক্য রক্ষা করা।

কোন মন্তব্য নেই