সৌদি প্রবাসী বাবার কাছে ছোট মেয়ের আবেগঘন চিঠি 💌 | Emotional Letter to Expat Father | Anika's Story
সৌদি প্রবাসী বাবার কাছে ছোট মেয়ের আবেগঘন চিঠি 💌 | Emotional Letter to Expat Father | Anika's Story
ডেসক্রিপশন (Description)
প্রবাসের কঠিন বাস্তবতা এবং প্রবাসী বাবার প্রতি ছোট মেয়ে আনিকার অন্তহীন ভালোবাসার এক আবেগঘন চিঠি। ভিডিওটি ভালো লাগলে অবশ্যই শেয়ার করে সকল প্রবাসী ভাইদের কাছে পৌঁছে দিন।
সৌদি প্রবাসী বাবার কাছে ছোট্ট মেয়ে আনিকার চিঠি
প্রিয় আব্বু,
আসসালামু আলাইকুম।
আজ তোমাকে একটা চিঠি লিখতে বসেছি। জানি, এখন তো চিঠি লেখার সময় নেই—ফোন আছে, ভিডিও কল আছে। তোমাকে যখন ইচ্ছে হয় তখনই ফোন করতে পারি। তোমার মুখও দেখতে পারি।
তবুও জানো আব্বু, ফোনের পর্দায় তোমাকে দেখা আর তোমার পাশে বসে তোমাকে দেখা—দুটো এক জিনিস নয়।
ভিডিও কলে যখন বলো,
“আনিকা, কেমন আছিস মা?”
তখন আমি হাসি দিয়ে বলি,
“ভালো আছি আব্বু।”
কিন্তু সেই হাসির আড়ালে যে তোমাকে কতটা কাছে পেতে ইচ্ছে করে, সেটা তুমি দেখতে পাও না।
আব্বু, তুমি সৌদি আরবে আছো অনেক দূরে। তোমার সকাল শুরু হয় কাজের চিন্তা নিয়ে, আর আমাদের সকাল শুরু হয় তোমার কথা দিয়ে।
কখনো কখনো বারান্দায় দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাকাই। মনে হয়, এই আকাশের ওপারেই তো আমার আব্বু আছে। তুমি হয়তো তখন কাজে যাচ্ছো, কিংবা প্রচণ্ড গরমের মধ্যে কাজ করছো।
তখন মনে মনে বলি,
“আল্লাহ, আমার আব্বুকে একটু ছায়া দাও। ওনার ক্লান্তিটা একটু কমিয়ে দাও।”
আব্বু, তোমার কি মনে আছে, ছোটবেলায় আমি তোমার সঙ্গে বাইরে বের হওয়ার জন্য কত বায়না করতাম?
তুমি বলতেই,
“মা, আজ আব্বুর কাজ আছে, অন্যদিন যাব।”
আমি তখন মুখ ফুলিয়ে বসে থাকতাম।
কিন্তু তুমি বাসা থেকে বের হওয়ার সময় দরজার কাছে এসে যখন বলতে,
“আচ্ছা, আমার মেয়ের জন্য কী নিয়ে আসব?”
তখন আমার সব রাগ মুহূর্তেই শেষ হয়ে যেত।
আমি কত কিছু চাইতাম!
কখনো চকলেট, কখনো পুতুল, কখনো চুলের ক্লিপ, কখনো আবার এমন কিছু—যার নাম তুমি দোকানদারকে বলার পরও ঠিক বুঝতে পারতে না।
তবুও তুমি আমার আবদারটা পূরণ করার চেষ্টা করতে।
আজ বুঝি, আব্বু—
জিনিসগুলো বড় ছিল না, বড় ছিল তোমার ভালোবাসাটা।
আর জানো আব্বু, এখন তোমার পাঠানো টাকা হাতে পেলেও আমার আগের মতো আনন্দ হয় না।
কারণ মনে হয়,
এই টাকার পেছনে আব্বুর কত ঘণ্টা পরিশ্রম আছে?
কত রোদ সহ্য করতে হয়েছে?
কত ক্লান্ত শরীর নিয়ে আবার কাজে যেতে হয়েছে?
কতবার হয়তো মন খারাপ হয়েছে, তবুও আমাদের সামনে হাসতে হয়েছে?
তুমি আমাদের জন্য টাকা পাঠাও, অথচ আমরা জানি না—তোমার নিজের কত ইচ্ছা সেই টাকার সঙ্গে হারিয়ে যায়।
আব্বু, তুমি যখন ফোন করে বলো,
“মা, পড়াশোনা করিস, আম্মুর কথা শুনিস, ভালো থাকিস।”
তখন তোমাকে বলতে ইচ্ছে করে—
“তুমিও ভালো থেকো আব্বু।
নিজের শরীরের যত্ন নিও।
সময়মতো খেয়ো।
বেশি কষ্ট করো না।”
কিন্তু কথাগুলো বলতে গেলেই কেমন যেন গলা আটকে আসে।
তুমি হয়তো ভাবো, তোমার ছোট্ট মেয়েটা বড় হয়ে গেছে।
হ্যাঁ আব্বু, আমি বড় হচ্ছি।
কিন্তু একটা কথা জানো?
তোমার কাছে আমি এখনো সেই ছোট্ট আনিকাই আছি।
যে তোমার হাত ধরে হাঁটতে চাইত।
যে তোমার পাশে বসে গল্প শুনতে চাইত।
যে তুমি বাইরে গেলে দরজার কাছে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করত।
আর তুমি বাড়ি ফিরলে সবার আগে তোমার কাছে ছুটে যেত।
আজও তোমার জন্য অপেক্ষা করি আব্বু।
শুধু অপেক্ষাটার ধরনটা বদলে গেছে।
আগে দরজার দিকে তাকিয়ে থাকতাম—
“আব্বু কখন আসবে?”
এখন মোবাইলের দিকে তাকিয়ে থাকি—
“আব্বু কখন ফোন করবে?”
কখনো ফোন আসে।
কখনো তুমি ক্লান্ত থাকো।
কখনো কথা বলতে বলতে ঘুমিয়ে পড়ো।
আমি তখন চুপ করে থাকি।
তোমাকে ঘুমাতে দেখি।
আর মনে মনে বলি—
“আমার আব্বুটা কত ক্লান্ত...”
আব্বু, তুমি জানো কি?
তোমার দাড়িতে যখন একটা একটা করে সাদা চুল দেখি, আমার ভেতরটা কেমন যেন করে ওঠে।
মনে হয়, সময়টা এত দ্রুত কেন চলে যাচ্ছে?
আমি বড় হয়ে যাচ্ছি।
তুমি বুড়িয়ে যাচ্ছো।
এই কথাটা ভাবতেই ভয় লাগে।
আমি চাই না তোমার বয়স বাড়ুক।
আমি চাই না তোমার চুল সাদা হোক।
আমি চাই না তোমার হাঁটতে কষ্ট হোক।
আমি চাই না কোনো একদিন তোমার হাতটা ধরে বলতে হয়—
“আব্বু, একটু আস্তে হাঁটো।”
আমি চাই তুমি অনেক বছর আমাদের সঙ্গে থাকো।
আমার বিয়েতে তুমি পাশে থাকবে।
আমার জীবনের সুখের দিনে তুমি হাসবে।
আমার কষ্টের দিনে মাথায় হাত রাখবে।
আর আমি তখনও তোমাকে বলব—
“আব্বু, আমি তোমার সেই ছোট্ট আনিকা।”
তুমি হয়তো আমাদের ভবিষ্যতের জন্য আজ নিজের বর্তমানটা দূরে রেখে দিয়েছো।
তাই আব্বু, তোমার কাছে আমার একটা ছোট্ট অনুরোধ—
আমাদের জন্য যতটা ভাবো, নিজের জন্যও একটু ভেবো।
সময়মতো খাবে।
বিশ্রাম নেবে।
নামাজ পড়বে।
নিজের শরীরের যত্ন নেবে।
আর যখন খুব একা লাগবে, তখন মনে করবে—
দূরে কোথাও তোমার একটা ছোট্ট মেয়ে আছে,
যে প্রতিদিন তোমার জন্য দোয়া করে।
হে আল্লাহ, আমার আব্বুকে হেফাজত করুন।
প্রবাসের প্রতিটি কষ্ট সহজ করে দিন।
তাঁর হালাল রিজিকে বরকত দিন।
তাঁর শরীর ও মন ভালো রাখুন।
আর খুব তাড়াতাড়ি তাঁকে আমাদের কাছে ফিরিয়ে দিন।
আমিন।
আব্বু, চিঠিটা আর বড় করছি না।
চোখ দুটো কেন যেন বারবার ভিজে যাচ্ছে।
শুধু একটা কথা বলব—
তুমি দূরে আছো বলে আমাদের থেকে দূরে নও।
তুমি আমাদের প্রতিটি দোয়ার মধ্যে আছো।
অনেক ভালোবাসি আব্বু।
নিজের যত্ন নিও।
আমাদের জন্য দোয়া করো।
আর হ্যাঁ...
আম্মুকে কিন্তু বলো না যে তোমাকে এত সুন্দর একটা চিঠি লিখেছি।
ওনাকেও খুব ভালোবাসি।
তবে...
তোমাকে একটু বেশি।
ইতি,
তোমার আদরের
ছোট্ট মেয়ে আনিকা 💌
YouTube এ সম্পূর্ণ ভিডিও দেখতে এখানে ক্লিক করুন :
ভিডিওটি আপনার অনুভূতি ছুঁয়ে গেলে লাইক, কমেন্ট এবং সাবস্ক্রাইব (Subscribe) করতে ভুলবেন না।
Voiceover: Ai
⚖️ Disclaimer:
This video is created for storytelling and emotional awareness purposes. All rights reserved.
সৌদি প্রবাসী বাবার কাছে মেয়ের চিঠি
প্রবাসী বাবার কষ্টের গল্প
আনিকার চিঠি
আবেগঘন ভালোবাসার গল্প
Letter to Expat Father
Saudi Probashi Emotional Story
Heart Touching Bengali Story
Father Daughter Love Story
#ProbashiLife
#FatherDaughterLove
#SaudiProbashi
#EmotionalStory
#BanglaEmotionalStory
#ProbasherGolpo
#LetterToFather
#AnikasLetter


কোন মন্তব্য নেই