Ads 1 Heydar Benar Ads 728×90

মসজিদে নববীর প্রবীণ মুয়াজ্জিন শেখ ফয়সাল বিন আবদুল মালিক আল নুমান তিনি ২২ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে সন্ধ্যায় শারীরিক জটিলতার কারণে ইন্তেকাল করেন

মসজিদে নববীর প্রবীণ মুয়াজ্জিন শেখ ফয়সাল বিন আবদুল মালিক আল নুমান তিনি ২২ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে সন্ধ্যায় শারীরিক জটিলতার কারণে ইন্তেকাল করেন 


পরিচিতি

শেখ ফয়সাল বিন আবদুল মালিক আল নুমান ছিলেন পবিত্র মসজিদে নববী-এর একজন দীর্ঘদিনের মুয়াজ্জিন — অর্থাৎ আজানের দায়িত্বে থাকা ধর্মীয় ব্যক্তি, যাঁর রব গোটা মদিনা শরীফে ঈমানি অনুভূতি যোগাত।

জন্ম ও পরিবার

এই মরহুম আল নুমান পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন, যাঁদের পরিবার বহু প্রজন্ম ধরে মসজিদে নববীতে আজান দেয়ার দায়িত্ব পালনের জন্য পরিচিত। তাঁর দাদাও মুয়াজ্জিন ছিলেন এবং তাঁর পিতা মাত্র ১৪ বছর বয়সে এই ভূমিকা গ্রহণ করেছিলেন এবং বহু দৰ্শনীয় বছর পর্যন্ত আজান দিয়ে যান।

জন্ম-সাল সম্পর্কে নির্দিষ্ট কোনো আন্তর্জাতিক সংবাদে তথ্য পাওয়া যায়নি কিন্তু তাঁর পরিবারের ঐতিহ্য ও জীবনের ধারাবাহিকতা মাধ্যমে তাঁর ভূমিকার গুরুত্ব স্পষ্ট।

শিক্ষা ও প্রস্তুতি

বর্তমানে প্রাপ্ত সংবাদে তাঁর ব্যক্তিগত শিক্ষা, বিশ্ববিদ্যালয় বা শিক্ষাজীবনের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি। কিন্তু পারিবারিকভাবে আজান ও ইবাদতের পরিবেশে বেড়ে ওঠা এবং পরিবারের ঐতিহ্যগত ভূমিকার কারণে কর্মজীবনের জন্য তিনি বিশেষভাবে প্রস্তত ছিলেন, এমনটি প্রচলিত সংবাদে বর্ণিত হয়েছে।

চাকরি ও কর্মজীবন

মুয়াজ্জিন হিসেবে নিয়োগ

শেখ ফয়সাল আল নুমান ২০০১ সালে মসজিদে নববীর মুয়াজ্জিন হিসেবে নিযুক্ত হন (হিজরি ১৪২২)।


এরপর প্রায় ২৫ বছর ধরে তিনি ইসলামী বিশ্বের অন্যতম পবিত্র স্থান থেকে *আজান দিয়ে মুসলিম উম্মাহকে ইবাদতে উদ্দীপ্ত করেন।


তাঁর সুমধুর ও আত্মবিশ্বাসপূর্ণ আজান আজান-কথার ছন্দে অনেকে স্মরণ করেন এবং তার *কণ্ঠ মুসলিম হৃদয়ে গভীর ছাপ রেখে গিয়েছে।


তাঁর আজান শুধু মদিনা শরীফে সীমাবদ্ধ ছিল না; বিশ্বের মুসলিম সম্প্রদায়ও তা সংবেদনশীল ভাবে শুনেছে এবং শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছে।

ব্যক্তিত্ব ও নৈতিক গুণাবলি

শেখ ফয়সালকে মানুষ সহজ সরল আচরণ, ভক্তি, আন্তরিকতা ও আল্লাহ-ভক্তের জীবনের প্রকাশ হিসাবে স্মরণ করেন। তার আগমন ও আজানের মাধুর্য আজীবন অনেকের মনে আধ্যাত্মিক অনুভূতি তৈরি করেছে।

ইন্তেকাল (মৃত্যু)

তিনি ২২ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে সন্ধ্যায় শারীরিক জটিলতার কারণে ইন্তেকাল করেন, যা সৌদি আরবের সরকারি-বেসরকারি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত।

ইন্না-লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন — তাঁর মৃত্যুতে মুসলিম উম্মাহ একজন নিবেদিতপ্রাণ খাদেমকে হারালো।

তাঁর জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয় ফজরের নামাজের পর মসজিদে নববী প্রাঙ্গণে এবং পরবর্তীতে তিনি জান্নাতুল বাকী কবরস্থানে দাফন করা হয়।

উপসংহার

শেখ ফয়সাল বিন আবদুল মালিক আল নুমান ছিলেন দিনে দিনে মুসলিম জীবনে আজানের এক অনন্য চেনা কণ্ঠ—যিনি প্রায় ২৫ বছরে পবিত্র মসজিদে নববীর মাইকে আজান দিয়েছেন। তাঁর সুমধুর কণ্ঠ ও আজানের মাধ্যমে তিনি মুসলিম উম্মাহর মনে ঈমান ও ভাবাবেগের স্মৃতি রেখে গেছেন। তিনি শুধু একজন মুয়াজ্জিন ছিলেন না—একজন আত্মবিশ্বাসী খাদেম, যিনি আজানের মাধ্যমে লাখো মানুষের হৃদয়ে আল্লাহর ডাক পৌঁছে দিয়েছেন।


কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.